স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৫ জুলাই ২০১৯

প্রধান কার্যাবলী

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলেও পরবর্তীতে এর কাজের পরিধি ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। এলজিইডি স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিনটি সেক্টরে কাজ করে থাকে; এগুলো হচ্ছে-পল্লি উন্নয়ন, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন ও নগর উন্নয়ন। একইসঙ্গে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। এলজিইডির সার্বিক কর্মকাণ্ড দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

 

পল্লি উন্নয়ন

কৃষি নির্ভর আমাদের দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে পল্লি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। উৎপাদিত কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন ও এর সুষ্ঠু বিপণনে গ্রামীণ সড়ক ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করছে এলজিইডি। এলজিইডির রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক। এ বিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক চলাচলের উপযোগী রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। পল্লি সড়ক কেবল সড়ক নয় গ্রামীণ অর্থনীতি, জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্যমুক্তির সোপানও বটে। পল্লি সড়ক দেশের আর্থ-সামাজিক সূচকে বিশেষত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সমতার অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

 

পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডি আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্বমানের প্রকৌশল সংস্থা। বিশ্বব্যাংকের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের পল্লির প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ জনগণ নিজ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটারের মধ্যে পাকা সড়ক ব্যবহারের সুবিধা পায়, যে সড়ক দিয়ে সহজেই মহাসড়কে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় এ অর্জনকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

গ্রামীণ অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্যকে গতিশীল করতে উন্নয়ন করা হচ্ছে গ্রোথ সেন্টার ও গ্রামীণ হাট-বাজার। কৃষক সহজেই উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছে এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এতে করে জনগণের আয় বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

 

এলজিইডি দেশব্যাপী উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের কাজও বাস্তবায়ন করছে। এতে করে স্থানীয় জনগণ একই ছাদের নিচে সহজেই সকল সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এলজিইডি নির্মিত পল্লি অবকাঠামো বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

 

বাংলাদেশের রয়েছে এক বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকা। এসব এলাকার জনজীবন সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের দ্বারা প্রভাবিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জান-মাল সুরক্ষার জন্য এলজিইডি উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে থাকে। এসব সাইক্লোন শেল্টার এলাকার শিক্ষা প্রসারে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।